Ruma Nandi
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ফলে বিশ্বের ইতিহাসে জন্ম নিল সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ বাংলাদেশ। পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক হত্যা লুটতরাজ ও ব্যাপক ধংসযজ্ঞের পর দেশ গড়ার কাজে আত্মনিবেদিত প্রাণ খুলনার কতিপয় সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও পেশাজীবি ব্যক্তিবর্গের আপ্রাণ প্রয়াসে সুনাগরিক গঠনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনার প্রাণকেন্দ্রে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।
সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে বিশ্বের বুকে মাথাউচু করে দাড়ানোর জন্য প্রয়োজন ছিল দক্ষ সুশিক্ষিত জন শক্তির। অগনিত বুদ্ধিজীবি হত্যার মধ্যদিয়ে এদেশকে যখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী করতে চেয়েছিল মেধাশুন্য। ঠিক তখনই খুলনা বাসীর উপর যাতে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব না পড়তে পারে তার জন্য প্রয়োজন ছিল নতুন করে মানসম্মত শিক্ষাদানের জন্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। উপমহাদেশের বিখ্যাত জননেতা, বিশিষ্ট আইনজীবি, সমাজবিদ, রাজনীতিবিদ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামকরণে ১৫ই জুলাই ১৯৭২ সনে প্রতিষ্ঠিত হল এই কলেজ।
খুলনার বিশিষ্ট সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী, পেশাজীবি সুধীবৃন্দের মহতী উদ্যোগে ও প্রচেষ্টার শহরের হ্যানে রেলওয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে এই কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে কলেজের নিজস্ব জায়গায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন বানরগাতি বাজারের নিকটবর্তী ১.৬৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে খুলনা শহরের বহু সুধীজনের অমূল্য অবদান রয়েছে। এর মধ্যে যারা প্রত্যক্ষভাবে নিরলস শ্রম দিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠায় অমূল্য অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ডাঃ এম, মনসুর আলী তৎকালীন এমসিএ, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ নাজিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি ডাঃ এস,এম,আবুবকর (প্রাক্তন রেজিস্ট্রার,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়), সহ-সভাপতি এবাদত আলী ভূইয়া, সম্পাদক এফ,এম,হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আলী আহমেদ, সদস্যবৃন্দ জনাব সালাউদ্দিন ইউসুফ, (এমসিএ), জনাব সামছুর রহমান মানি (বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ), অধ্যাপক শ,ম,আব্দুল খালেক (প্রাক্তন অধ্যাপক, সরকারী আযমখান কমার্স কলেজ), গাজী আমজাদ হোসেন (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শহীদ সোহরাওয়ার্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়),জনাব মুন্সি মোহাম্মদ আলী, অধ্যক্ষ খায়রুল আলম, জনাব বোরহান উদ্দিন, জনাব এনায়েত আলী (এমসিএ) জনাব মমিন উদ্দিন (এমসিএ) এ্যড. শেখ রাজ্জাক আলী, জনাব লুৎফর রহমান মনি (এমসিএ), ডাঃ মাহবুবুর রহমান, বাবু প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাসসহ কলেজের উপাধ্যক্ষ ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান ও এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সোনাডাঙ্গা থানার অর্ন্তগত প্রথম ডিগ্রী কলেজ এবং বর্তমানে অনার্স কলেজ হিসাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে উন্নত, দক্ষ, সুনাগরিক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ৪০ বছর পার হয়ে যাওয়ার পর বহু কৃতি ছাত্র-ছাত্রী জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অমুল্য অবদান রেখে দেশের সেবা করছে এবং ভবিষৎ-এ ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-এর যৌথ প্রচেষ্টার ফলে এই সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এটি এলাকার জনগণ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।
